‘আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু’
আম র প ল ড র একব – লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত করিম মিয়ার মা ময়না বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। সোমবার (১১ মে) রাতে মাইফাদুন এলাকায় তার বন্ধুর সঙ্গে অবস্থানকালে ইসরায়েলের ড্রোন হামলার শিকার হন করিম, যার মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে শিবপুর উপজেলার হরনখোলা গ্রামে এমন দৃশ্য দেখা গেছে যে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি দেখার ফলে স্থানীয় পরিবেশ বেশি বিষণ্ণ হয়ে উঠেছে।
“দুইদিন হইয়া গেছে, এখনো আমার পোলাডারে দেখতে পারলাম না। সামনে ঈদে বাড়ি আইতো। আমি শুধু চাই, আমার ছেলের লাশটা দেশে আনুক সরকার, যেন শেষবারের মতো দেখতে পারি।”
নিহত করিম মিয়া হরনখোলা গ্রামের কাজম আলীর ছেলে। তিনি পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রায় ১২ বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমান। সেখানে একটি মুদির দোকানে কাজ করতেন। তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। করিমের সংসারে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
“রবিবার রাতে শেষ কথা হইছিল। সে কইছিল- আর কয়েকদিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হইয়া যাইবো। পরে হঠাৎ ফোন আইলো- কইলো, করিম আর নাই। এই কথা শোনার পর আমার দুনিয়া অন্ধকার।”
করিমের বড় ভাই শরীফ শেখ জানান, হামলার সময় তারা একটি ঘরের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে কিছু পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান করিম। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, “করিম খুবই শান্ত ও ভালো মানুষ আছিল। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ।”
