যমুনা কেড়ে নিয়েছে ঘর-জমি, স্থায়ী বাঁধের দাবি
যম ন ক ড় ন য় ছ – সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বর্তমানে শিখরে উঠতে থাকলেও বিপৎসীমার নিচে থাকছে। মে মাসের মাঝখানে থেকে নদীর পানি তীব্র পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যা বিস্তৃত তীরবর্তী এলাকাকে সমস্যায় ফেলেছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং তীব্র স্রোত চৌহালী, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার বিস্তৃত এলাকাকে আক্রান্ত করছে।
নদী ভাঙনে ভূমিহীন হচ্ছে বিশেষ বাসিন্দারা
চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ গ্রামে অটোরিকশাচালক মোল্লা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে গত কয়েকদিনে তাঁর একমাত্র আশ্রয় হিসেবে বিস্তারিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আর কিছু চাই না, শুধুমাত্র স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবি রয়েছে। যে বাঁধ হলে আমাদের জীবন থেকে বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যেত।
“বারবার ঘর করেছি, বারবার নদী নিয়ে গেছে।”
সাইফুলের মতো ছয় থেকে সাতটি গ্রামের বহু পরিবার নদী পাড়ে তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অনেক জমি ও গাছপালা নদীর ভিতরে চলে গেছে। চর সলিমাবাদ গ্রামের গৃহবধূ বিলকিস জানান যে কাজ করে খাওয়া যায়, কিন্তু ভাঙনে থামাতে পারা যায় না। স্থায়ী বাঁধের বিনা আশা তারা নিশ্চিন্ততা হারাচ্ছেন।
খাসপুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নে কয়েকশ ফুট ভূমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তীব্র স্রোত সম্প্রতি প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা বিলীন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার এখন হুমকির মুখে। নাটুয়ারপাড়ার কৃষকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, বছরের পর বছর জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে যাচ্ছে। স্থায়ী সমাধান ছাড়া তাদের দুর্ভোগ কমছে না।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে যে মে মাসের মাঝখানে থেকে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এখনো তা বিপৎসীমার চারপাশে থাকছে। পানি ওঠানামার কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে চরাঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না তা পরিষ্কার নয়।
ঢাকা/মাসুদ সম্পর্কিত বিষয়:
