News

জীয়নকূপ আর ডুবন্ত নৌকার গল্পে আজও জীবন্ত বেহুলা-লখিন্দর

বেহুলা ও লখিন্দরের প্রেম গল্প বিনসাড়া গ্রামে আজও জীবন্ত

জ য়নক প আর ড বন ত – সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামে এখনও রয়েছে লোকবিশ্বাসের নানা গল্প। গ্রামে পরিচিত জীয়নকূপ আর ডুবন্ত সোনার নৌকার কথা বললে জনপ্রিয় কাহিনী আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশ্ববিখ্যাত লোককাহিনীর নায়িকা বেহুলা সুন্দরী এখানেই জন্ম নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা আবেগে মনে করেন।

বিনসাড়া গ্রাম কী ছিল প্রাচীন নিচানীনগর বা নিচানী বাজার?

বিনসাড়া গ্রাম ছিল প্রাচীন নিচানীনগর বা নিচানী বাজার নামে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, বেহুলা ও লখিন্দরের বিয়ে হয়েছিল বগুড়ার চম্পকনগরের চাঁদ সওদাগরের ছেলে লখিন্দরের সঙ্গে। কিছু প্রাচীন মন্দির আর বণিকদের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ এখনও মাটি খননের পর পাওয়া যায়।

এখানে বিশ্বাস করা হতো, কেউ নৌকাসদৃশ জায়গায় মাটি কাটতে গেলে অমঙ্গল ঘটত। এ কারণে ডুবন্ত সোনার নৌকার স্থান বিশেষ সম্মানের চোখে দেখা হত। সেই নৌকার পাশেই রয়েছে জীয়নকূপ, যার পানি বছরের পর বছর পার হলেও কখনো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায় না।

“বেহুলার কাহিনি আমরা বাব-দাদার কাছ থেকে শুনে আসছি। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ডুবন্ত নৌকার জায়গায় কোদাল চালালে অমঙ্গল হতো।” বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন।

প্রাচীন বটগাছের শিব মন্দির আর অলৌকিক স্থানের কথা

বটগাছের ছায়ায় বেহুলা ও লখিন্দরের পরিচয় হয়েছিল বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। গাছটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখনও গাছের শত শত ঝুরি অতীতের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও পর্যটন সুবিধার অভাবে এখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম হলেও স্থানটি বিশেষ ধরনের আস্থার বিষয়।

“জীয়নকূপ ও ডুবন্ত নৌকার গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। ডুবন্ত নৌকার পাশে বিশ্বাস করা হতো যে বেহুলা লখিন্দরের প্রাণ ফেরানোর জন্য এই কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করেছিলেন।” বিনসাড়া গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র বলেন।

বিনসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থান ছিল বেহুলার বাড়ি বলে ধারণা করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনার বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জানান, “বেহুলার জীয়নকূপ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

গ্রামে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু পর্যটন সুবিধা ও গবেষণামূলক কার্যক্রম সীমিত। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে এ অঞ্চলের প্রকৃত ইতিহাস আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।

Leave a Comment