‘আমাগো কপালে ঈদ নাই’
আম গ কপ ল ঈদ ন ই – জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত) পথশিশু সাগর। বয়স ১২ বছর। ঈদুল আজহারের তৃতীয় দিন (৩০ মে) সাগরের সাথে কথা বলা হয়। সে জানায়, “সবাই ঈদ করে, নতুন জামা পরে। আমাদের কোনও নতুন পোশাক নেই, ঈদের দিন ভালো খাওয়ার উপায়ও নেই। যদি কেউ আমাদের জন্য এক প্লেট সেমাই বা বিরিয়ানি দেয়, তবে হেইডাই আমাদের ঈদ।”
ঈদ কেবল নিজের আনন্দের নাম নয়, বরং তা ত্যাগের এবং ভাগাভাগির উৎসব। ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে প্রকৃত ঈদের আনন্দ কখোনই পূর্ণতা পেতে পারে না। ইসলামে কোরবানির যে নিয়ম বা নিদর্শনা আছে ঠিক সেভাবে প্রতিপালন করা হলে সমাজে যারা ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত তাদের সংখ্যা কমে আসবে। পাশাপাশি কোরবানি নিয়ে আমরা যেন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না করি। কোরবানির মাংস ইসলামে যেভাবে বণ্টনের নিয়ম আছে তা সঠিকভাবে করতে হবে।
শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করা হয়, সমাজে চারপাশে মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদের উৎসবে মুখর হচ্ছে। কিন্তু ছিন্নমূল শিশুদের দেখা যায় কেবল অনুতাপ ও অবাক হয়ে পথচারীদের দিকে। তারা সামান্য কিছু খাবার বা প্রতিদানের আশায় হাত পেতে চাচ্ছে।
তেজগাঁও রেললাইন বস্তির পাশে পলিথিন মুড়িয়ে থাকা ষাটোর্ধ্ব বয়সী রহিমা বেগম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন, “বাবা, আমাদের কপালে ঈদ নাই। ঈদ আইলে বড়লোকেরা আনন্দ করে, আর আমরা চাইয়া থাকি। পেটে ভাত নাই, ঈদ দিয়া কী করুম?”
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। উৎসবের এই দিনটিতে যদি প্রত্যেকে অন্তত একজন ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব নেন, তবেই “কপালে ঈদ নাই” কথাটি সমাজ থেকে মুছে ফেলা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট বিষয়:
ঈদের ছুটিতে মুখর ড্রিম হলিডে পার্ক, নতুন আকর্ষণ ‘সি ওয়ার্ল্ড’
সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ঈদ আনন্দ, হতাশ ব্যবসায়ীরা
