কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫,৪৩৬ পরিবার
কক সব জ র বন য য – তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম বমু খালের তীরে অবস্থিত ইউনিয়ন বমু বিলছড়িতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এই এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বাসস্থান মাতামুহুরী নদী ও বমু খালের তীর ঘেঁষা ছিল। উপজেলা চকরিয়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভারী ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বর্ষণের কারণে আটটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা ৩১ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা এবং ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন ২৪ জন। এদের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা ও ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা।
বন্যার পানি কমতে শুরু করায় ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে দুর্গম অবস্থায় কয়েকটি ইউনিয়ন এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছেন। কয়েক দিন ধরে তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
“বন্যার পানি কিছুটা কমলেও আমাদের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। ঘরের অনেক আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে,” বলেন সেলিনা আক্তার।
সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যানবাহনের চলাচল বাধা পেয়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আহতদের প্রায় হাতে কাজ করা কঠিন।
“বন্যায় আমাদের এলাকার কয়েকটি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও রাস্তা ভেঙে গেছে, কোথাও গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ। কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে,” বলেন আবদুল জলিল।
ত্রাণ বিতরণের প্রায় অব্যাহত অবস্থা রয়েছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা বিশেষ কষ্ট সাহায্য পাচ্ছেন না। আহাদুল ইসলাম বলেন, “বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও আমাদের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাজারে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিবিরখীল গ্রামের বাসিন্দা রেজুয়ানা বেগম বলেন, “ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। দুর্গম হওয়ায় হয়তো কেউ আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।”
রামু
