কোরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ক রব ন র চ মড় সঠ – বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “কোরবানির চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। প্রশাসন দ্বারা সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা-মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং গুলির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।”
সরকার দেশব্যাপী কোরবানি চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামী ঈদের আগে দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামগণ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রস্তুত করতে বিভাগীয় কমিশনারদের নজর রাখতে বলেন।
“প্রতিবছর অসচেতনতার কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।”
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চামড়ায় লবণ প্রয়োগের সময়সীমা ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। প্রতি গরুর চামড়ায় ৮-১০ কেজি এবং ছাগলের চামড়ায় ৩-৪ কেজি লবণ ব্যবহার করা হবে। সামান্য বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে সংরক্ষণের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক-মহাসড়কের পাশে হাট না বসানো এবং পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপপ্রচার রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও গৃহীত হয়েছে।
“সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না।”
সরকার দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার করা হবে। ঈদের তিনদিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।
