News

‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

মাহদী হাসান থানায় আশ্রয় নেন হুমকি দেওয়ার পর

ছাত্রদলের কর্মীদের আক্রমণের অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের সুরক্ষার আবেদন করেছেন

থ ন প ড় য় দ য় – হবিগঞ্জ জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান সোমবার হবিগঞ্জ সদর থানায় আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালাতে আসছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেননি কাউকে তার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে বা হামলা করছে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে মাহদী হাসান চলন্ত রিকশায় বসে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদল তাকে আক্রমণ করতে আসছে। পরে তিনি থানার প্রাঙ্গণে ঢুকে পুলিশের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, “হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিওতে কাউকে দেখা যায়নি। মাহদী হাসান কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেনি। আমরা তদন্ত করেছি, কোনো তথ্য পাইনি যে তাকে কেউ ধাওয়া করেছে।”

মাহদী হাসান বলেন, “আমার একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ছিল। পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।”

মোটরসাইকেলে করে তাকে ধাওয়া দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। গত বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ। তিনি বলেন, “আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল। এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?”

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা পুরো অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সাজানো নাটক বলে মাহদী হাসান দাবি করেন। তিনি বলেন, “যে ছাত্রদল এ অভিযোগ আনেন তারা কোনো তথ্য প্রমাণ করতে পারেনি। আমার পারসোনাল অধিকার নাই? কেন আমাকে হামলা করতে হবে?”

তিনি আরো বলেন, “আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসারের রুমে আছি। আগেই জানিয়েছিলাম যে আমার নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ ছিল। পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন গুলিতে ৯ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন। ওইদিন থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন থানার এসআই সন্তোষ চৌধুরী।

Leave a Comment