News

কী যেন বলতে চেয়েছিলেন দেবাশীষ- আর জানা হলো না

debasis-2608200612
Foto : Karen Moore - risebdnews.com
Table of Contents
  1. একটি না-ধরা ফোনকল আর তার পরের চিরন্তন নীরবতা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

একটি না-ধরা ফোনকল আর তার পরের চিরন্তন নীরবতা

Risebdnews.com – ক য ন বলত চ য ছ – গত ৩ আগস্ট দুপুরে মুঠোফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল একটি নাম। তখন হয়তো সে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কাজের তাড়াহুড়ুর মুহূর্তে সেদিন ফোনটি ধরা গেল না। হোয়াটসঅ্যাপে ছোট করে লেখা হলো— “একটু ব্যস্ত আছি ভাই, কাজ শেষ করেই ফোন দিচ্ছি।” কাজ শেষ করে কয়েকবার ফোন করা হলো। কিন্তু আর কোনো সংযোগ পাওয়া গেল না। দেবাশীষ সেদিন ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন—তা আর কোনোদিন জানা গেল না। একটি অসমাপ্ত কথোপকথন আজ বুকের ভেতর গভীর হাহাকার হয়ে আছে, সাথে মিশে আছে এক ধরনের অপরাধবোধ—আরেকটু আগে যদি ফোনটি ধরা যেত! কিন্তু জীবন কখনো ‘যদি’ দিয়ে ফিরে আসে না।

একটি আগুন, চারটি জীবন, একটি ভেঙে-পড়া পরিবার

কলকাতার একটি ভয়ংকর হোটেল অগ্নিকাণ্ডে চোখের পলকে কেড়ে নেওয়া হলো দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, ছোট ছেলে ও শ্বশুরের প্রাণ। স্ত্রীর চিকিৎসার আশা বুকে বেঁধে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে পাঠিয়েছিলেন দেবাশীষ। দেশে রেখে গিয়েছিলেন আট বছরের অবুঝ মেয়েটিকে—বৃদ্ধ বাবা-মার কাছে। কিন্তু সেই আগুন শুধু চারটি জীবন নিভিয়ে দেয়নি; এক মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে একটি পরিবার, একটি শিশুর শৈশব এবং অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। দেশে ফেলে যাওয়া তাঁর আট বছরের ছোট্ট মেয়ে মহিমা এক লহমায় হারিয়েছে তার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষগুলোকে। যে বয়সে বাবার হাত ধরে পৃথিবীটাকে চিনে নেওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাকে শিখতে হচ্ছে—কিছু মানুষ আর কোনোদিন ফিরে আসে না। কী ভাষার সান্ত্বনা দেওয়া যায় সেই শিশুটিকে? কীভাবে বোঝানো যায় যে কিছু মানুষ চলে যাওয়ার পরও তাদের স্মৃতি থেকে যায়—কথায়, আচরণে, আর কখনো একটি অসমাপ্ত ফোনকলের নীরবতায়?

সত্যের জাগরণে কোনো আপস নয়

মফস্বল শহর কুষ্টিয়া থেকেও সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব, ক্ষুরধার দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নির্লোভ সততার যে দৃষ্টান্ত দেবাশীষ রেখে গেছেন, তা আজকের সময়ে সত্যিই বিরল। তিনি কখনো সত্যের জাগরণে আপস করতে শিখেননি। সাংবাদিকতাকে তিনি নিছক পেশা হিসেবে নেননি; বরং একে মনে করতেন মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি ক্ষেত্র। একজন সাংবাদিক হিসেবে তার সততা তাকে শ্রদ্ধার মানুষ করেছিল।

মানুষ হিসেবে অসাধারণ

তবে শুধু সাংবাদিক হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও দেবাশীষ ছিলেন অসাধারণ। ভীষণ ভদ্র, বিনীত ও মিষ্টভাষী ছিলেন তিনি। তার কথায় কখনো ঔদ্ধত্য বা অহংকারের ছাপ দেখিনি। মনে হতো, কারো সঙ্গে রাগ করে কথা বলাটাই যেন তার স্বভাবের বাইরে। মতের অমিল হলেও তিনি তা প্রকাশ করতেন সংযত ও সৌজন্যপূর্ণভাবে। মানুষের প্রতি সহজাত শ্রদ্ধাবোধ তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দিত। নিজের সামর্থ্যের জায়গা থেকে নীরবে অনেকের উপকার করতেন, সেই উপকারের কথা বলে বেড়ানোর কোনো প্রবণতা তার মধ্যে দেখিনি। বরং কারও প্রয়োজনের সামনে পাশে দাঁড়ানোকে দেবাশীষ স্বাভাবিক মানবিক দায়িত্ব বলেই মনে করতেন। এই নীরবে ভালো করার মানসিকতাই তাকে মানুষের কাছে আরও আপন করে তুলেছিল। একজন মানুষ হিসেবে তার বিনয়, মমতা ও পরোপকারিতা তাকে করে তুলেছিল ভালোবাসার মানুষ। দেবাশীষের সবচেয়ে বড় পরিচয় বোধহয় এখানেই—তিনি শুধু ভালো সাংবাদিক ছিলেন না, ভালো মানুষও ছিলেন।

কিলোমিটারের বাইরের সম্পর্ক

আমরা দুজনই কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য। কিন্তু ভৌগোলিক দূরত্বটা কম ছিল না। আমি থাকি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সীমান্তঘেঁষা দৌলতপুর উপজেলায়, আর তিনি কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে। অথচ কিলোমিটারের সেই কাঠখোট্টা দূরত্ব কখনো আমাদের আত্মিক সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কাজের সূত্রে গড়ে ওঠা পরিচয়টি সময়ের সঙ্গে গভীর সখ্য ও ভালোবাসার রূপ নিয়েছিল। বয়সে তিনি আমার ছোট ছিলেন, কিন্তু আত্মিক উদারতা, শ্রদ্ধা জানানোর ভঙ্গি আর ভালোবাসায় তিনি ছিলেন অনেক বড়।

শেষ দেখা আর শেষ ফোন

গত ৩০ জুলাই কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন অনেক সাংবাদিকের সঙ্গেই চলছিল আনুষ্ঠানিক করমর্দন। কিন্তু আমাকে দেখেই দেবাশীষ একগাল হেসে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বড্ড দরদি ছিলেন মানুষটা! যখনই কথা হতো, অভিমানের সুরে তাগিদ দিতেন—

“ভাই, কুষ্টিয়া শহরে কবে আসবেন? দেখা কিন্তু করতেই হবে!”

দেখা না হলে শিশুর মতো অভিমান করতেন। তার এই আন্তরিকতায় কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, কোনো হিসাব ছিল না—ছিল আপন করে নেওয়ার এক সহজাত ক্ষমতা। অথচ শেষবার যখন তিনি আমাকে স্মরণ করলেন, নির্বতির নির্মমতায় আমি সাড়া দিতে পারিনি।

এমন একজন মানুষকে এভাবে হারানোর বেদনা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। দেবাশীষ শুধু আমার পেশাগত সহকর্মী ছিলেন না; ছিলেন আপাদমস্তক একজন সত্যান্বেষী সাংবাদিক। জীবনের সব কলরব থামিয়ে দেওয়া হলো। দেবাশীষ আজ কেবলই এক নীরব স্মৃতি।

Frequently Asked Questions

What is ক য ন বলত চ য ছ?

ক য ন বলত চ য ছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক য ন বলত চ য ছ matter?

ক য ন বলত চ য ছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment